কাঁঠালের উপকারিতা

Photo- Collected


গ্রীষ্ম মানেই ফলের মৌসুম।আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, তরমুজ ইত্যাদি রসালো ফল সহজলভ্য এই মৌসুমে। আর গ্রীষ্মের এসব ফল খাওয়া চলে বর্ষা পর্যন্ত।একেক ফলের রয়েছে একেক পুষ্টিগুণ। প্রতিটি মৌসুমি ফলই শরীরের নানা রকম ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। আর আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালেরও রয়েছে নানা গুণাবলী। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠালের পাতা থেকে শুরু করে সব কিছুই প্রয়োজনীয়। কাঁঠাল এমনি একটি ফল যার কোন অংশই ফেলনা নয়।কাঁঠাল খাওয়া শুরু হয় মুচি কাঁঠাল থেকে, শেষ হয় পাকা কাঁঠালে। আরও থাকে কাঁঠালের বিচি। কাঁঠালের বিচি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর।

কাঁঠাল একটি সুস্বাদু রসালো ফল। এটির অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। বাংলাদেশ হোম ইকোনমিক্স কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা কাঁঠালের সুবিধা সম্পর্কে বলেন, “নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁঠাল। কাঁঠালে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করে কাঁঠাল।”

কাঁঠালে বিদ্যমান বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান কাঁঠালে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে, ত্বক সুন্দর করতে সাহায্য করে।

কাঁঠালে অল্প পরিমাণে প্রোটিনও রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালে ১.৮ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায় এবং কাঁচা কাঁঠালে ২০৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় কাঁঠালের বীজেও ৬.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই প্রোটিন দেহের গঠনে সাহায্য করে।

কাঁঠালে রয়েছে শ্বেতসারও পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে, কাঁচা কাঁঠালে ও কাঁঠালের বীজে যথাক্রমে ০.১ গ্রাম, ০.৩ গ্রাম ও ০.৪ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়। কাঁঠালের মধ্যে ভিটামিন এ পাওয়া যায় যা চোখের দৃষ্টি উন্নত করতে সহায়তা করে। কাঁঠালের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য চোখের রেটিনার ক্ষতি প্রতিরোধ করে। কাঁঠালে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে ০.১১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ মি.গ্রা ও কাঁঠালের বীচিতে ১.২ মি.গ্রা বি-১ পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে, কাঁচা কাঁঠালে এবং কাঁঠালের বীচিতে যথাক্রমে ০.১৫ মি.গ্রা,  ০.৯ মি.গ্রা এবং  ০.১১ মি.গ্রা বি-২ পাওয়া যায়।

কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ । পাকা কাঁঠালে ২১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১৪ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীজে ১১ মি.গ্রা ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, জানিয়েছেন ফারাহ মাসুদা। তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ‘সি’ শরীরকে নানা রকম ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া এই ভিটামিনটি সর্দি-কাশি ও জ্বর প্রতিরোধ করে। এটি ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে নানা রকম ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।

কাঁঠালে কিছু পরিমাণ আয়রন পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে আয়রনের পরিমাণ ০.৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১.৭ মি.গ্রা এবং বীজে ১.৫ মি.গ্রা। চাহিদা অনুযায়ী আয়রন গ্রহণ করে পেটের অসুখ, সংক্রামক রোগ, যেমন— ম্যালেরিয়া, কৃমি, আলসার, রক্ত আমাশয় ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।  কাঁঠালে রয়েছে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাছাড়া সঠিক পরিমাণে কাঁঠাল খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

কাঁঠাল কার্বোহাইড্রেটের একটি অন্যতম উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল থেকে ৪৮ কিলোক্যালরি, কাঁচা কাঁঠাল থেকে ৫৩ কিলোক্যালরি এবং কাঁঠালের বীজ থেকে ১৩০ কিলোক্যালরি পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। তাই কাঁঠাল থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ফারাহ মাসুদা

কাঁঠালে থাকা শর্করা, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে কোলেস্টেরল না থাকায় যে কোনও বয়সের লোকেরা কাঁঠাল খেতে পারেন। কাঁঠাল ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ । প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে এবং বীজে যথাক্রমে  ৪৫০ এবং  ১০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে ০.৩ মি.গ্রা থায়ামিন, ০.১৩ মি.গ্রা রিবোফ্লাভিন। কাঁঠালের হলুদ ও রসালো অংশে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধোক উপাদান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও একটি ভালো উৎস।

কাঁঠাল হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিহত করে।

কাঁঠাল ত্বকের বলিরেখা বা বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে বলে জানালেন ফারাহ মাসুদা। কাঁঠালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বয়ঃবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা যায় না।তাই তিনি ত্বকের বয়স ধরে রাখার জন্য এবং মুখের সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী করতে কাঁঠাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

“কাঁঠালে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যা হাড় ও দাঁতের জন্য বিশেষ উপকারীম”, বলেন মাসুদা।

কাঁঠালের নানা রকম খনিজ উপাদান শরীরের নানা রকম গ্রন্থি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কাঁঠালের কপার নামক খনিজ উপাদান থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক হরমোন তৈরির ক্ষমতা বজায় রাখে। কপার মানুষ দুঃশ্চিন্তা ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।

কাঁঠালে ডায়েট্রি ফাইবার থাকে। এটি মলদ্বার থেকে বিষাক্ত পদার্থ সরিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, কোনও বিষাক্ত পদার্থ কোলনের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। এভাবে কাঁঠাল কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে ।

"কাঁঠাল আলসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক হিসাবেও কাজ করে।"


Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post